« | Home | »

কনস্ট্যান্স গার্নেট : ভাষান্তরের নেপথ্যে

By Subhamay Ray | April 20, 2008

আপনাদের মধ্যে অনেকেরই শৈশব হয়ত এই পত্রলেখকের মত হাকল্‌বেরি ফিন, দি অ্যাডভেঞ্চার্স অব টম সয়্যার, আংকল টমস্ কেবিন অথবা লে মিজেরাব্‌ল্ ইত্যাদি বিখ্যাত সাহিত্যকীর্তির বাংলা অনুবাদে আবিষ্ট হয়ে ছিল। এমনকী ইতালীয় লেখক বেনেদেত্তো ক্রোচের অনুবাদক’কে ‘অবিশ্বস্ত’ বলাটাও হয়ত অনেকেই সমর্থন করবেন না। জার্মান দার্শনিক নিট্‌শের মত অনুবাদের সমস্যা প্রসঙ্গে ধ্রুপদী গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদে জালিয়াতির অভিযোগও মেনে নিতে পারবেন না। মূল রচনার নিষ্কলুষ পবিত্রতায় অনুবাদের ছোঁয়াকে ‘কলঙ্ক’হিসেবে বিবেচনা করাই আমাদের চিরাচরিত প্রথা। একদিকে সততা-সত্যনিষ্ঠা আর অন্যদিকে অনুবাদের মধ্যে এই প্রায় বিরূপ সম্পর্ককে এবং সেই সঙ্গে নৈতিক পাপপুণ্যের কঠোর তুলাদণ্ডে অনুবাদের মূল্যায়নে অনুবাদককে প্রায়শই সমালোচনার সূত্রে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়ে থাকে। এমন ইঙ্গিতও প্রায়শই করা হয় যে, অনুবাদ একই সঙ্গে সুন্দর এবং বিশ্বস্ত হতে পারে না।

 

তবু আমরা যারা মোটে দু-একটা ভাষাই পড়তে পারি, তাদের অনুবাদ বিনা গতি নেই। “নেই মামার থেকে কানা মামা ভালো” এই বহুল প্রচলিত প্রবাদ শিরোধার্য করে নিয়েই বাংলা অথবা ইংরেজি ভাষার সাহায্যে আমরা বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে আমাদের হৃদয়ের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি। কিন্তু রুশ, ফরাসি অথবা জার্মান সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটিয়ে দেন যে নেপথ্যের নায়ক-নায়িকারা, তাদের কথা আমরা কতটুকুই বা জানি? ই.ভি.রিউ এর ইলিয়াড অথবা ওডিসি’র অনুবাদ অথবা লিওনার্ড ট্যানকক এর ইংরেজি অনুবাদে এমিল জোলার উপন্যাসগুলি শাশ্বত কালের জন্য কিংবদন্তী হয়ে থাকবে। চেকভ অথবা ডস্টয়েভস্কি’র মত রুশ সাহিত্যিকদের ইংরেজি ভাষাভাষী পাঠকের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটানোর নেপথ্যের নায়িকা হলেন কনস্ট্যান্স গার্নেট (১৮৬১-১৯৪৬)।

 

১৮৬১ সনে ইংল্যাণ্ডের ব্রাইটনে কনস্ট্যান্সের জন্ম। কেমব্রিজ এর নিউহ্যাম কলেজে লাতিন এবং গ্রিক ভাষা অধ্যয়ন করলেও কনস্ট্যান্স আজীবন যে কাজে মগ্ন ছিলেন তা হল রুশ সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদ। টুর্গেনিভ, টলস্টয়, ডস্টয়েভস্কি, চেকভ, গোগোল এর মত বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিকদের গল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা ইত্যাদি তিনিই প্রথম ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ক্যাথেরিন ম্যানসফিল্ড ১৯২১ সালে লেখা একটি চিঠিতে বলেছেন: 

 

আধুনিক প্রজন্ম আপনার কাছে কতটা ঋণী তা আমাদের পক্ষে সঠিক অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এই বইগুলি আমাদের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, তার চেয়ে একটুও কম নয়। 

 

কনস্ট্যান্স গার্নেট ছিলেন ডস্টয়েভস্কি এবং চেকভের রচনাকর্মের প্রথম ই‍ংরেজি অনুবাদিকা। স্বল্পকাল এক সম্ভাবনাময় প্রাথমিক শিক্ষিকা হিসেবে অতিবাহিত করে তিনি রুশ-সাহিত্য অনুবাদে আত্মনিয়োগ করেন। সাহিত্য ও নাট্যধর্মী বহু গ্রন্থের ভাষান্তর করে তিনি অনুবাদ-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। অ্যাসপেক্টস্ অব লাভ এবং লেডি ইনটু ফক্স – এর রচয়িতা ঔপন্যাসিক ডেভিড গার্নেট ছিলেন তাঁর পুত্র। ১৯৪৬ সালে কনস্ট্যান্সের জীবনাবসান হয়।

—————————————

এই অনুবাদকের পূর্ব-প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ থেকে এখানে কয়েকটি অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করা হল। আগ্রহী পাঠক সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি পাঠ করতে উৎসুক হলে এই অনুবাদকের ই-মেল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

Topics: Posts in Bengali | No Comments »

Comments